JPEG বনাম PNG: সঠিক ইমেজ ফরম্যাট বেছে নিন

আপনার ছবি অপ্টিমাইজ করতে JPEG এবং PNG-এর শক্তিগুলো অন্বেষণ করুন

আপনি কি জানতে চান আপনার প্রয়োজনের জন্য কোন ইমেজ ফরম্যাটটি ভালো, JPEG না PNG? অথবা ভাবছেন, এদের পার্থক্য আসলে কী এবং কেন কেউ একটিকে অন্যটির উপর বেছে নেয়? আপনার প্রজেক্টের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এই দুই জনপ্রিয় ফরম্যাটের মূল পার্থক্যগুলো সহজভাবে দেখে নেওয়া যাক।

মৌলিক ধারণা: JPEG বনাম PNG

JPEG এবং PNG সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দুই ধরনের ইমেজ ফরম্যাট, তবে তাদের শক্তি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে। JPEG ছবি এবং জটিল ইমেজের জন্য উপযোগী, অন্যদিকে PNG স্বচ্ছতা প্রয়োজন এমন গ্রাফিক্স ও ইমেজের জন্য বেশি উপযুক্ত। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কারণে এই দুই ফরম্যাটই ব্যবহার করা হয়।

এদের মধ্যে তিনটি মূল পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

১ JPEG বনাম PNG: স্বচ্ছতা (Transparency)

প্রথম বড় পার্থক্য হলো স্বচ্ছতা। PNG স্বচ্ছ পিক্সেল সমর্থন করে, কিন্তু JPEG তা করে না। পিক্সেল তিনটি প্রাথমিক রঙ (RGB) দিয়ে গঠিত, আর PNG অতিরিক্ত একটি চ্যানেল ব্যবহার করে যাকে আলফা চ্যানেল বলা হয়, যা স্বচ্ছতা নির্ধারণ করে। কোনো পিক্সেলের আলফা মান 0 হলে সেটি অদৃশ্য হয়ে যায়; মান 100 হলে সেটি পুরোপুরি অস্বচ্ছ থাকে। JPEG পিক্সেল সবসময় অস্বচ্ছই থাকতে হবে।

২ কমপ্রেশন: লসলেস বনাম লসি

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো প্রতিটি ফরম্যাট কীভাবে ইমেজ কমপ্রেস করে। PNG লসলেস কমপ্রেশন ব্যবহার করে, অর্থাৎ কমপ্রেস করলেও ইমেজের সব মূল ডেটা অক্ষত থাকে। তাই যখন আপনাকে খুব পরিষ্কার ও বিস্তারিত ইমেজ দরকার হয়, তখন PNG উপযুক্ত।

অন্যদিকে, JPEG লসি কমপ্রেশন ব্যবহার করে, যা ফাইল সাইজ কমাতে কিছু ইমেজ ডেটা বাদ দেয়। এতে JPEG ফাইল অনেক ছোট এবং দ্রুত লোড হয়, তবে বিশেষ করে বেশি কমপ্রেশন দিলে কিছু গুণগত মান হারায়। যদিও বেশিরভাগ ফটোর ক্ষেত্রে এই মানহানি সাধারণত চোখে পড়ে না।

৩ ফাইল সাইজ

সাধারণত PNG ফাইলগুলো গুণগত মান ধরে রাখে, তবে সাইজ বড় হয়। JPEG অনেক ছোট ফাইল সাইজে কমপ্রেস করতে পারে, যা ওয়েবে ব্যবহারের জন্য বেশি কার্যকর। উচ্চমানের JPEG অনেক ক্ষেত্রে PNG-এর মতোই ভালো দেখাতে পারে, কিন্তু সাধারণত কম জায়গা নেয়।

সর্বোচ্চ বিট-ডেপথ: রঙের সুবিধা

PNG এবং JPEG-এর একটি বড় পার্থক্য হল বিট ডেপথ, যা সরাসরি নির্ধারণ করে একটি ফরম্যাট কত রঙ হ্যান্ডেল করতে পারে।

প্রসঙ্গ হিসেবে, বিট ডেপথ বোঝায় প্রতিটি চ্যানেল (যেমন লাল, সবুজ, নীল) কত শেড বা ঘনত্বের রঙ দেখাতে পারে। একটি স্ট্যান্ডার্ড ৮-বিট ইমেজ প্রতি চ্যানেলে ২৫৬টি শেড দেখাতে পারে, যা প্রায় ১.৬ কোটি ভিন্ন রঙে রূপান্তরিত হয়।

JPEG সর্বোচ্চ প্রতি চ্যানেলে ৮ বিট পর্যন্ত সাপোর্ট করে, যা যথেষ্ট ভালো। শেষ পর্যন্ত, মানুষের চোখ প্রায় ১ কোটি রঙ আলাদা করে বুঝতে পারে। বেশিরভাগ কনজিউমার মনিটরও কেবল ৮-বিট রঙ প্রদর্শন করতে পারে, তাই দৈনন্দিন ব্যবহারে JPEG-এর সীমাবদ্ধতা খুব চোখে পড়ে না। তবে PNG প্রতি চ্যানেলে ১৬ বিট পর্যন্ত সাপোর্ট করতে পারে, যা প্রায় ২৮১ ট্রিলিয়ন সম্ভাব্য রঙ প্রদর্শনের সুযোগ দেয়।

এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ, মানুষের চোখ কিছু রঙে (যেমন নীল) কম সংবেদনশীল হলেও সবুজের ক্ষেত্রে বেশি সংবেদনশীল, এবং বেশি বিট ডেপথ সেই সূক্ষ্ম শেডগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে। তাছাড়া, ইমেজ এডিট করার সময় অতিরিক্ত বিট বেশি ফ্লেক্সিবিলিটি দেয়। কম বিট ডেপথের ইমেজে উজ্জ্বলতা বা কনট্রাস্ট পরিবর্তন করলে দ্রুত মানহানি হয় এবং গ্রেডিয়েন্ট অংশগুলো মসৃণ না হয়ে ব্লকের মতো (ব্যান্ডিং) দেখা যায়।

JPEG নিয়ে একটু গভীরে

যখন আপনি .jpg and .jpegদেখেন, বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। দুটিই একই ফরম্যাট, যেখানে পুরোনো ফাইল সিস্টেমগুলো কেবল তিন অক্ষরের এক্সটেনশন সমর্থন করত বলে ".jpg" এক্সটেনশনটি ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

JPEG-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি কমপ্রেশন লেভেলঅর্থাৎ JPEG কোয়ালিটি ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এটি 0% (কম মান এবং বেশি কমপ্রেশন) থেকে 100% (প্রায় লসলেস) পর্যন্ত সেট করা যায়। 0% কোয়ালিটির JPEG জুম করলে খুব খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু ছোট আকারে দেখলে অনেক সময় আশ্চর্যজনকভাবে ভালোই দেখায়।

JPEG-এর আরও কিছু কৌশল আছে, যেমন ক্রোমা সাবস্যাম্পলিং, যা রঙের ডেটা কমপ্রেস করে কিন্তু উজ্জ্বলতা ধরে রাখে। এই বুদ্ধিমান পদ্ধতি মানুষের চোখের এমন বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগায় যে আমরা সাধারণত উজ্জ্বলতার পরিবর্তনে রঙের ক্ষুদ্র পরিবর্তনের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল, বিশেষ করে স্বাভাবিক দেখার পরিবেশে।

PNG ইমেজ ফরম্যাট সম্পর্কে আরও

PNG (Portable Network Graphics) একটি বহুল ব্যবহৃত এবং প্রশংসিত ইমেজ ফরম্যাট। তবে এর কমপ্রেশন পদ্ধতি এবং রঙ সংরক্ষণের কৌশলের পেছনে আরও কিছু বিষয় আছে যা সবসময় চোখে পড়ে না।

কমপ্রেশন লেভেল

PNG-তে 0 থেকে 9 পর্যন্ত ঐচ্ছিক কমপ্রেশন লেভেল রয়েছে। লেভেল 0-তে কোনো কমপ্রেশন হয় না, তাই সেভ করা দ্রুত হয় কিন্তু ফাইল সাইজ বড় থাকে। অন্যদিকে, লেভেল 9-এ বেশি হিসাব-নিকাশ করে সাইজ যতটা সম্ভব কমানো হয়, ফলে সেভ করতে সময় বেশি লাগে। সবচেয়ে কম ও সবচেয়ে বেশি কমপ্রেশনের মধ্যে ফাইল সাইজের পার্থক্য সাধারণত প্রায় ১০-১৫%। তবে যে লেভেলই ব্যবহার করা হোক, PNG সবসময় লসলেস থাকে; অর্থাৎ JPEG-এর মতো কমপ্রেশনের সময় ডেটা ফেলে দেয় না, বরং সব ইমেজ ডেটা অক্ষুণ্ণ রাখে।

রঙ সংরক্ষণের বিকল্প

PNG রঙের তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রদান করে:

  • TrueColor: এটি হলো স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি, যেখানে প্রতিটি পিক্সেলকে একটি RGB মান দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়, এবং ৮-বিট বা ১৬-বিট হওয়ার উপর নির্ভর করে শেডের সংখ্যা বদলে যায়। TrueColor পূর্ণ রঙের সঠিকতা বজায় রাখে।
  • Indexed Color Mode: এটি একটি প্যালেট সিস্টেম, যেখানে ইমেজের কেবল সবচেয়ে প্রচলিত ২৫৬টি রঙ রাখা হয়, ফলে ফাইল সাইজ অনেক কমে যায়, তবে রঙের সঠিকতা কমে। এই মোডে প্রতিটি পিক্সেল পূর্ণ RGB মান না রেখে প্যালেটের একটি রঙের রেফারেন্স ধরে রাখে, যার ফলে ফাইল অনেক ছোট হয়, কিন্তু ইমেজের মান তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

লসলেস নিয়ে ভুল ধারণা

PNG-কে প্রায়ই লসলেস ফরম্যাট ধরা হলেও, Indexed Color Mode ব্যবহার করলে সেখানে লসি কমপ্রেশন যুক্ত হয়।

উদাহরণ হিসেবে, Photoshop-এর মতো টুলগুলোতে "8-bit PNG" অপশন থাকে, যা প্রতি চ্যানেলে ৮-বিট বোঝায় না, বরং মোট ২৫৬টি রঙ বোঝায়। আপনি যদি ফুল-কালার PNG আশা করেন, তবে এটি বিস্ময়কর হতে পারে, কারণ এতে TrueColor-এ পাওয়া প্রায় ১.৬ কোটি রঙের পরিবর্তে সীমিত রঙের রেঞ্জসহ একটি ফাইল পাবেন। এসব সূক্ষ্ম বিষয় বুঝলে আপনি PNG ব্যবহার করার সময় ফাইল সাইজ এবং গুণগত মানের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে ইমেজগুলো আরও ভালোভাবে অপ্টিমাইজ করতে পারবেন।

অ্যানিমেটেড PNG (APNG)

অ্যানিমেটেড PNG PNG ফরম্যাটের একটি আকর্ষণীয় এক্সটেনশন, যদিও খুব বেশি ব্যবহৃত নয়। মূলত এগুলো একাধিক PNG ইমেজের সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি ইমেজকে একটি ফ্রেম হিসেবে ধরা হয়।

APNG ফরম্যাট নির্ধারণ করে প্রতিটি ফ্রেম কতক্ষণ দেখানো হবে এবং এর মাধ্যমে সহজ অ্যানিমেশন তৈরি হয়। MPEG-এর মতো ভিডিও ফরম্যাটের বিপরীতে, অ্যানিমেটেড PNG-তে ইন্টারফ্রেম কমপ্রেশন সমর্থিত নয়, ফলে এর গঠন তুলনামূলকভাবে সরল থাকে। এগুলো সাধারণ PNG এক্সটেনশন বা নির্দিষ্ট APNG এক্সটেনশন উভয়ই ব্যবহার করতে পারে।

JPEG বনাম PNG: সঠিক ফরম্যাট নির্বাচন

কোন ফরম্যাট ব্যবহার করবেন ঠিক করার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:

  • স্বচ্ছতার প্রয়োজন: আপনার ছবিতে স্বচ্ছতা দরকার হলে PNG বেছে নিন।
  • মান বনাম ফাইল সাইজ: স্বচ্ছতা প্রয়োজন না হলে JPEG এবং PNG দুটোই ব্যবহার করা যায়, তবে JPEG সাধারণত ছোট ফাইল সাইজ দেয়, এবং বেশি এডিট বা জুম না করলে মানের তফাত চোখে পড়ে না।
  • গুণমান বজায় রাখা: মূল ছবির গুণমান যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইলে PNG ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন indexed color mode এ সেভ না করেন, কারণ এতে রঙের গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

সারসংক্ষেপ

এই দুটো ফরম্যাট সম্পর্কে ধারণা থাকলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অপশন বেছে নিতে পারবেন, ফলে ছবির মান ও পারফরম্যান্স দুটিই ভালো থাকবে।

Img2Go দিয়ে ছবি কনভার্ট করুন!

Img2Go অনলাইন ইমেজ কনভার্সনকে করে তোলে সহজ ও প্রফেশনাল।

ছবি কনভার্ট করার পাশাপাশি, সাইটের অন্য ফ্রি টুল দিয়ে আপনি ফটো এডিট করতে পারেন, এমনকি বিল্ট-ইন AI আর্ট জেনারেটরদিয়ে AI আর্টও জেনারেট করতে পারেন। চেষ্টা করে দেখুন!

Img2Go দিয়ে কীভাবে ছবি কনভার্ট করবেন?

  1. Img2Go ওয়েবসাইটে যান: যান Convert to image টুলে। এই কনভার্টার দিয়ে আপনি বিভিন্ন ফাইলকে ইমেজে রূপান্তর করতে পারেন, যেমন ভিডিও থেকে ইমেজ বা ছবি থেকে PNG, JPEG, GIF, বা SVG ফরম্যাটে কনভার্ট করা।
  2. আপনার ফাইল আপলোড করুন: ফাইলগুলো ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ করে আপলোড এরিয়াতে রাখুন, অথবা আপনার ডিভাইস, Dropbox, Google Drive, কিংবা URL থেকে নির্বাচন করুন। আপনি এমনকি একাধিক ফাইল একসাথে আপলোড করতে পারেন প্রিমিয়াম প্ল্যান!
  3. আউটপুট ফরম্যাট বেছে নিন: আপনার আউটপুট ফরম্যাট বেছে নিন, যেমন JPEG অথবা PNGড্রপডাউন থেকে। প্রয়োজন হলে quality, DPI, বা size পরিবর্তনের মতো এডিট প্রয়োগ করুন। দরকার না হলে এডিটিং অংশ এড়িয়ে যান।
  4. ফাইল কনভার্ট করুন: "START" ক্লিক করে কনভার্ট করুন।
  5. ইমেজ ডাউনলোড করুন: কাজ শেষ হলে ইমেজ ডাউনলোড করুন অথবা সরাসরি Google Drive বা Dropbox এ সেভ করুন। যদি একাধিক ফাইল কনভার্ট করে থাকেন, সেগুলো ডাউনলোড করুন ZIP ফাইল আকারে, ব্যবহার সহজ করার জন্য।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অফার

Img2Go শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ফ্রি অ্যাকাউন্ট অফার করে!

এই এডুকেশনাল অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনি প্রিমিয়াম ফিচার ও টুল ব্যবহার করতে পারবেন, যা দিয়ে আরও সহজে প্রফেশনাল মানের ফলাফল পাওয়া যায়। বিস্তারিত পড়ুন এখানে.

AI আর্ট জেনারেটর আমাদের AI Creator Studio দিয়ে আপনার সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে লেখাকে শিল্পে রূপান্তর করুন
এখনই চেষ্টা করুন